প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হলেও বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। বিশেষ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই গুঞ্জন নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন তিনি।
বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তনের শুরু ১৯০০ সালের গোড়ার দিকের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে। এরপর ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দফা এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মোড়েই এ দেশের মানুষ নেতৃত্বের সংকট উত্তরণে ত্যাগ স্বীকার করেছে। ১৯৭৯ সালে বিএনপির সূচনালগ্ন থেকে ড. মোশাররফের মতো বিজ্ঞ রাজনীতিকরা দলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন এক ধারা শুরু হয়েছে। ১৯০০ সালের পরাধীন জনপদ থেকে ২০২৬ সালের এই ‘সংস্কারমুখী বাংলাদেশ’—ড. মোশাররফের রাজনৈতিক জীবন এই দীর্ঘ ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সাক্ষাৎকারে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রশ্ন করা হয় যে, মন্ত্রিপরিষদে তার নাম না থাকায় রাষ্ট্রপতি পদের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং এটি নিয়ে ভাবিও না। এর আগে অনেকবার বলেছি, আমাদের পার্টি আমাকে যেভাবে কাজে লাগাবে, যে দায়িত্ব দেবে আমি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার চেয়ে দলের সিদ্ধান্তই তার কাছে মুখ্য।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে শুরুর কাজ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোশাররফ বলেন, "দেশে যে অন্যায় হয়েছে ও দুর্নীতি চলছে, তা রোধ করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে ৩১ দফা প্রস্তাব রয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।" তিনি মনে করেন, সরকারের অংশ হোক বা রাষ্ট্রপতি—জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বনির্ভর দেশ গড়ওয়াই হবে তার মূল লক্ষ্য।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কেবল একজন রাজনীতিক নন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক সফল অধ্যাপক। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসন থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ইতিপূর্বে তিনি জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য।
সূত্র: ১. ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সাম্প্রতিক টেলিভিশন সাক্ষাৎকার (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা। ৩. বাংলাদেশ গেজেট ও সংসদ সচিবালয় আর্কাইভ। ৪. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির বিবর্তন দলিল।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ড. মোশাররফ হোসেনের নাম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় আসাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমলের শাসনামল থেকে বর্তমানের ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে বাংলাদেশ প্রবেশ করলেও নৈতিক নেতৃত্বের সংকট সবসময়ই ছিল। ড. মোশাররফের মতো একজন অভিজ্ঞ ও সজ্জন রাজনীতিক রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হলে তা বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |